তথ্য প্রযুক্তি সর্বশেষ আপডেট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট  Bangabandhu-1 সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান: ৩.৭ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ডিজাইন এবং তৈরি করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির।

স্যাটেলাইটের ধরণ: মহাকাশে প্রায় ৫০টির উপর দেশের দুই হাজারের উপর স্যাটেলাইট বিদ্যমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-আবহাওয়া স্যাটেলাইট, পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট, ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট ইত্যাদি। তবে বিএস-ওয়ান হল যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।

স্যাটেলাইটের কাজ: টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌছায় নি সেসব জায়গায় এ স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত হতে পারে ইন্টারনেট সংযোগ।

অর্থায়ন: প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে ১৫৪৪ কোটি টাকা, বাকি ১৩৫৮ কোটি টাকা হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) বিডার্স ফিনান্সিং এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ও উৎক্ষেপণকারী রকেট: মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১  ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হয়।

স্যাটেলাইটের ফুটপ্রিন্ট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে। এর ফুটপ্রিন্ট বা কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে পুরো বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া।

মহাকাশে কেনা হয় কক্ষপথ: ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি অরবিটাল স্লটে (নিরক্ষরেখায়) উড়বে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট বা নিরক্ষরেখা (১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব) লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে এ স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।

বিএস-ওয়ানের খরচ: প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে ১৫৪৪ কোটি টাকা, বাকি ১৩৫৮ কোটি টাকা হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) বিডার্স ফিনান্সিং এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে।

সুযোগ সুবিধা সমূহ

দেশীয় অর্থ সাশ্রয়:
বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও ইত্যাদি সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন স্যাটেলাইট অপারেটরের কাছ থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবদ প্রতি বছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় করে থাকে। অনুমোদন পাওয়া আরও স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হলে এ ভাড়া আরও বাড়বে। শুধু ব্রডকাস্টিং চাহিদার পূরণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে এ অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হবে। তখন এই অর্থ প্রতি বছর রাজস্ব হিসেবে আয় হবে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন:
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ট্রান্সপন্ডার বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচার সেবার প্রসার সহজ হবে:
প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচার সেবার প্রসার সহজ এবং বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। এছাড়া দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

ব্রডকাস্টিং সেবায় খরচ কমবে:
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া ছাড়াই প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক কম মূল্যে ব্রডকাস্টিং সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

তথ্য প্রযুক্তি সংবাদ সর্বশেষ আপডেট

গ্রহ নক্ষত্র গুলো শুন্যে ভেসে আছে কিভাবে?

অনেকেরই প্রশ্ন- গ্রহ নক্ষত্র গুলো শুন্যে ভেসে আছে কিভাবে?
কেনোই বা তারা সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে?
কেনো তারা ছিটকে বা অন্যভাবে দূরে চলে যাচ্ছেনা?
আমাদের চারপাশে আমরা যে বলের বা আকর্ষন বিকর্ষনের ঘটনা দেখি এগুলো কেনো হয়?

এগুলোর মোটামুটি বিস্তারিত ব্যাখা দেওয়ার চেষ্টা করবো আজ। প্রথমেই আসি গ্রহ নক্ষত্রের ব্যাপারে। তারা ভেসে আছে কি করে?
আমরা অনেকেই হয়তো স্পেস টাইম কার্ভেচারের নাম শুনেছি। অনেকেই হয়তো কিছুটা বুঝি আবার কেউ কেউ হয়তো বুঝিনা। আসুন জিনিসটা আবার বুঝা যাক।

ধরুন আপনি একটি রাবারের পাতলা চাদরকে অনেক টান টান করে চারপাশে আটকালেন। তখন সেটা একটা সমতল পৃষ্ঠ এর ন্যায় দেখাবে। কিন্তু যদি এখন আপনি এর মধ্যে একটি ১ কেজি বা ৮০০ গ্রাম ওজনের বল রাখেন।তাহলে সেই বলটি উক্ত চাদরকে বাকাবে এবং একটু গর্তের ন্যায় তৈরি করবে।

এখন কথা হচ্ছে, যদি আপনি ঐ চাদরের একদম উপরে বা মাঝের যেকোনো কোথাও একটি ছোট মার্বেল রাখেন, সেটি গড়িয়ে গিয়ে সেই ১ কেজি ওজনের বলের সাথে গিয়ে লাগতে চাইবে।কেননা সে একটি বাকানো পথ তৈরি করেছে যার ফলে তার থেকে কম ওজনের যাই দেওয়া হবে সেটা সেই বাক তৈরির উৎস্যের দিকেই যাবে। ঠিক যেভাবে নিচু গর্তে পানি গড়িয়ে যায়।

তবে উক্ত চাদরে যদি আপনি কোনো মার্বেলকে একটু অনুভূমিক বরাবর গতি প্রদান করতে পারেন তবে দেখবেন অনেক্ষণ ধরে তা ঘুরপাক খাবে।মাঝে মধ্যে গর্তে গিয়ে আবার বেরিয়ে এসে ঘুরতে থাকবে এবং শক্তি হারাতে হারাতে এক সময় থেমে গিয়ে গর্তে পতিত হবে।

এবার আসুন, গ্রহের বেলায় এটা কিভাবে কাজ করে। বিজ্ঞানীদের মতে, বিগব্যাং হওয়ার পরে আমাদের এই মহাবিশ্বের মধ্যে ৪র্থ মাত্রার একটি চাদর বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিলো। যার উপরেই মহাবিশ্বের সকল কিছু অবস্থান করছে। বলে রাখা ভালো এটি একটি ৪র্থ মাত্রার চাদর যা ঘর্ষণহীন এবং যার নাম দেওয়া হয়েছে স্পেস-টাইম। তো এই চাদরও ঠিক রাবারের ওই চাদরের মতনই ক্রিয়া করে। উদাহরণ স্বরূপ, আমাদের সৌরজগতের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো সূর্য। অর্থাৎ, সবচেয়ে বেশি স্পেস-টাইমকে বাঁকাবেও সেই সূর্য। আর যেহেতু পৃথিবীসহ সকল গ্রহই সূর্যের নিকট নগণ্য, তাই তারা সবাই সূর্যের দিকেই ধাবিত হতে চাইবে ঠিক যেভাবে মার্বেলটি হতে চাইতো।

কিন্তু অনেকে এখানে প্রশ্ন করবে,মার্বেলটি তো একসময় থেমে গিয়ে কেন্দ্রে পতিত হয়েছিলো। তাহলে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলো কেনো পতিত হচ্ছেনা?

উত্তর হলো, যেহেতু আগেই বলেছি স্পেস-টাইম একটি ৪র্থ মাত্রার ঘর্ষণহীন চাদর, তাই পৃথিবী বা অন্যান্য গ্রহগুলো ঘর্ষণহীন ভাবে ঘুরতে পারছে। যেহেতু ঘর্ষণহীনভাবে ঘুরছে, তাই তাদের শক্তিও হারাচ্ছে না। অর্থাৎ, মার্বেলের মতো গ্রহদের একদম কেন্দ্রে পতিত হবার কোনো রাস্তা নেই(এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে)। তাদের কোনো বিরাট বাহ্যিক শক্তি দ্বারা বিকৃত না করা হলে যতদিন সূর্য আছে, তারা ততোদিনই একই ভাবে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে। এ কারণেই বলা হয় পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে। কারণ,তারা এখনও বিকৃত হয়নি। সূর্য স্পেস-টাইমকে বেশি বাকিয়েছে, তাই সূর্যের চেয়ে কম ভরের যারা রয়েছে সকলেই সূর্যের দিকে ধাবিত হতে চেয়েছে এবং তাদের পূর্বের আদিবেগের কারনে গোলাকার বা পরাবৃত্তাকারে অববরত প্রদক্ষিণ করে যাচ্ছে।

ঠিক প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলোও কিন্তু এভাবেই কাজ করে। যেমন পৃথিবীর ভর চাঁদের চেয়ে বেশি। তাই পৃথিবী স্পেস-টাইমকে চাঁদের থেকে বেশি বাকিয়েছে এবং ফলস্বরুপ, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে আর পৃথিবী সূর্যকে। এই গ্রহের ঘুর্ণনের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আমাদের কেন্দ্রমুখী এবং কেন্দ্রবিমুখী বলের সমান হওয়ার ব্যাখ্যাগুলো দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রমুখী এবং কেন্দ্রবিমুখী বলগুলো কেনো সমান হলো? কিভাবে সমান হলো? এগুলোর ব্যাখ্যা কেউ চায় ও না,কেউ দেয় ও না। তাই, এটার মূল কারণ এবং থিওরি এটাই যা সবচেয়ে লেটেস্ট।

এবার আসা যাক বলের দিকে। আমরা সকলেই চারটি মৌলিক বলের নাম জানি। মহাকর্ষ বল তার মধ্যে একটি যা একটি দুর্বল বল। কেনো দুর্বল হয় এই মহাকর্ষ বল?

এটারও মূল থিওরি স্পেস-টাইমই।
যেমন আমাদের পৃথিবীর মধ্যেই যদি আমরা কিছু দূরে দূরে দুইটি কলম রাখি তারা কিন্তু মিলিত হচ্ছেনা। কারণ, তাদের অতো বেশি পরিমানের ভর নেই যার দ্বারা তারা স্পেস-টাইম বাকিয়ে অন্যদের আকর্ষণ করবে। তবে তারা যে আকর্ষণ করছে না এমনটি নয়।তারাও করছে, তবে তা এতোই কম যে তাদের অগ্রসর হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ নয়। অর্থাৎ, যেই বস্তু যতো বেশি স্পেস-টাইমকে বাকাতে পারবে, সে ততো বেশি অন্য বস্তুকে তার দিকে টেনে নেওয়ার প্রবণতা দেখাবে। এমনকি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুসমূহের কাছাকাছি আসার মধ্যেও এই স্পেস-টাইম এর প্রভাব রয়েছে। খেয়াল করলে দেখা যায় আকর্ষন+বিকর্ষণ+ প্রায় সকল ধরনের বলই এই স্পেস-টাইমের গর্তের উপরই নির্ভর করছে। গর্তই তৈরি করছে বল। যার কারণে এই মহাবিশ্ব এতো সুশীলভাবে চলছে,রহস্যজনকভাবে,সুন্দরভাবে।
ব্ল্যাকহোলও স্পেস-টাইমকে কাজে লাগিয়েই সমস্ত কিছুকে গ্রাস করে।যেহেতু ব্ল্যাকহোলগুলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভারী বস্তুগুলো হিসেবে কাজ করে তাই এরা স্পেস-টাইমকে এতোই বাকায় যে তা ছিদ্রের ন্যায় হয়ে যায়।যার দরুন, উহার ভিতরে কিছু চলে গেলে তার ফিরে আসার মতো শক্তি থাকেনা।আলো 3X10^8 মি/সে. গতি নিয়েও তা থেকে বের হতে পারেনা। কেনো পারেনা? যেহেতু আলো মূলত ফোটন কণার প্রবাহ। আর কণা অবশ্যই স্পেস-টাইমের ফাঁদে পা দিতেই পারে স্বাভাবিক।